মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

গোলাপগঞ্জ উপজেলার পটভূমি

পটভূমিঃ

            সুরমা-কুশিয়ার বিধৌত অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গোলাপগঞ্জ উজেলা বাংলাদেশের এক ঐতিহ্যবাহী,প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ। হযরত শাহজালালের (র:) অন্যতম সহচর হযরত সৈয়দ বাহাউদ্দিন (র:) ,উপমহাদেশে বৈষ্ঞব ধর্মের মহান সাধক ও সংস্কারক শ্রীচৈতন্য সহ অসংখ্য পীর আউলিয়ার পদস্পর্শে ধন্য এ উর্বরা ভূমিতে উৎপাদিত হয় ধান,শাক-সবিজ,ফলমূল ইত্যাদি মূল্যবান কৃষিজাত পণ্য, ভূগর্ভে আবিস্কৃত হয়েছে গ্যাস-তেলের মতো মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। সার বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছেন এ উপজেলার হাজার হাজার প্রবাসী । সমৃদ্ধ এ জনপদের কৃষিপণ্য, প্রকৃতিক সম্পদ আর প্রবাসীদের অর্জিত মূল্যবান বৈদেশিক মূদ্রা বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে কত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না । অনুপম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অধিকারী এ উপজেলার অনুচ্চ টিলা, সুশোভন বনাঞ্চল,নদী-বিল, আওর, ছড়া ও বিস্তৃত সমভূমি দেশ-বিদেশের ভ্রমন ইপপাসুদের মূগ্ধ করে। বিস্তৃত ইতিহাস-ঐতিহ্যের অধিকারী এ উপজেলার রয়েছে গৌরবময় অতীত, সমৃদ্ধা মর্তমান ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত। সূদুর অতীত কাল থেকে এ অঞ্চলের বহু বরেণ্য ও কৃতী ব্যক্তিত্ব দেশের সামাজিক,রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক,প্রশাসনিক ও আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসেছন। কিন্তু দূভার্গ্যজনক হলেও সত্য যে, এ সমৃদ্ধ ইতিহাসের ধারাবাহিক সংরক্ষণের অভাবে আজ তা বহুলাংশেই বিস্মৃত। তাই এ প্রাচীন জনপদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ রচনা করা অত্যন্ত জটিল,সময় সাপেক্ষ এবং প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। বৃহত্তর সিলেট ও গোলাপগঞ্জকে নিয়ে রচিতক কিছু ইতিহাস গ্রন্থ এবং স্থানীয় প্রবীন ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণকে অবলম্বন করে গোআলাপগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্যের যে পরিচয় তুলে ধরা হলো তাতে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অসম্পূর্ণতা থাকতে পারে। আমাদের সীমাবদ্ধতা ও অক্ষমতা বিবেচনা করে এ বিষয়ে পাঠকদের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিভঙ্গী প্রত্যাশা করছি ।

 

নামকরণ :

                 গোলাপগঞ্জ ও তৎসংলগ্ন বিভিন্ন অঞ্চলের নামকরেণর কোন প্রামাণ্য দলিল অদ্যাবধি পাওয়া যায়নি। তা জনশ্রুতি ও কিংবদন্তীর উপর ভিত্তি করে গোলাপগঞ্জ উপজেলার নামকরণের ইতিহাস তুলে ধরা হলো ।

মুগল শাসনামলে সম্রাট মুহম্মদ শাহ (১৭১৯-৪৮) এর রাজত্বকালে আনুমানিক ১৭৪০ সালে অল্পকালের জন্য সিলেটের দেওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা) নিযুক্ত হয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে সিলেট আসেন গোলাব রাম (মতান্তরে গোলাব রায়)। এ সময় সিলেট অঞ্চলের ফৌজদার ছিলেন সমসের খান এবং সুবা বাংলার শাসনকর্তা ছিলেন সুজা উদ্দিন খান । দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এই ধর্মপ্রাণ দেওয়ান গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিনে শ্রী চৈতন্যের পিতৃভূমি সম্পর্কে অবগত হন। দেওয়ানের নির্দেশে সিলেট থেকে ঢাকাদক্ষিনপর্যন্ত সড়ক ও সেতু নির্মিত হয়।  এ সড়ক পথে ঢাকাদক্ষিণ এসে দেওয়ান শ্রী চৈতন্যের পিতৃভূমিতে এক মন্দির স্থাপন করেন, এর সমনে এক দীঘি খনন করান । হেতিমগঞ্জ থেকে ঢাকাদক্ষিণগামী সড়কিট আজো‍‍ ‌‌‍‍‍‍‍‍ দেওয়ান সড়ক নামে পিরিচত ।এ সড়কে দেওয়ানের পুল নামে একটি প্রাচীন কালভার্ট আজ ও বর্তমান। ধারনা করা হয় এই দেওয়ানের নামানুসারেই সুরমা নদী তীরে গোলাবগঞ্জ নামে এক বাজার গড়ে ওঠে যা কালক্রমে পরিবর্তিত হয়ে গোলাবগঞ্জ নাম ধারন করে। গোলাবগঞ্জের প্রাচীন দলিল ও রেকর্ডপত্রে গোলাবগঞ্জ নামটি এরই সাক্ষ্য বহন করে।

 

প্রশাসনিক ইউনিট হিসাবে গোলাপগঞ্জ:-

 

                                                             পাঠান যুগে এবং তৎপরবর্তী মুগল যুগে গোলাপগঞ্জে কোন প্রশাসনিক কেন্দ্র থাকার বিবরণ পাওয়া যায় না । মুগল যুগে এ অঞ্চলের ঢাকাদক্ষিনে রাজস্ব আদায়-উসুলের ব্যবস্থা ছিল বলে জানা যায় । তখন এ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকতেন দিল্লী সম্রাটের সনদ প্রাপ্ত চৌধুরী গণ । পরবর্তীতে ইংরেজ শাসনামলে প্রথমে থানা প্রশাসন ছিল হেতিমগঞ্জে। ১৯০৬ সালে তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকার সুরমা তীরবর্তী গোলাপগঞ্জ বাজারের সন্নিকটে থানা কার্যালয় স্থানান্তর করেন।